Dhaka Mass Transit Company Ltd.

DTCA Act 2012

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২

( ২০১২ সনের ৮ নং আইন )
[৮ মার্চ, ২০১২]

ঢাকা মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিকীকরণ করিবার লক্ষ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর এবং নরসিংদী জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করিয়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং তদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু ঢাকা মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিকীকরণ করিবার লক্ষ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর এবং নরসিংদী জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করিয়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং তদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; 
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল, যথাঃ—

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২ । বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে—
(ক) “ Act ” অর্থ Town Improvement Act, 1953 (E.B Act XIII of 1953);
(খ) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ এই আইনের ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত “ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ”;
(গ) “গণপরিবহন” অর্থ সর্বস্তরের জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা;
(ঘ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান;
(ঙ) “ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (DAP) ” অর্থ Act এর অধীন মাস্টার প্ল্যানের আলোকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত বিস্তারিত এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা;
(চ) “ঢাকা” অর্থ Act এর Section 1(2) এর অধীন ঢাকা সিটি এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ জেলাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ছ) “ঢাকা মহানগরী” অর্থ Act এর Section 73 (2) অনুসারে নির্ধারিত কোন এলাকা;
(জ) “নির্বাহী পরিচালক” অর্থ ধারা ১২ এর অধীন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক;
(ঝ) “পরিচালনা পরিষদ” অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পরিষদ;
(ঞ) “পরিবহন” অর্থ সরকারি বা বেসরকারি যানবাহনে যাত্রী এবং মালামাল স্থানান্তরের ব্যবস্থা;
(ট) “ভাইস-চেয়ারম্যান” অর্থ পরিচালনা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান;
(ঠ) “যানবাহন” অর্থ যাত্রী এবং মালামাল স্থানান্তরের জন্য যান্ত্রিক পরিবহন মাধ্যম;
(ড) “সদস্য” অর্থ পরিচালনা পরিষদের সদস্য;
(ঢ) “সচিব” অর্থ পরিচালনা পরিষদের সচিব;
(ণ) “স্ট্র্যাটিজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (STP) ” অর্থ ঢাকার জন্য প্রণীত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা।

আইনের প্রাধান্য

৩। আপাততঃ কার্যকর অন্য কোন আইন, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোন দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

৪। (১) এই আইনে বলবৎ হইবার পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ” নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে। 
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

প্রধান কার্যালয়

৫। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও প্রশাসন

৬। (১) কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসন ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(২) পরিচালনা পরিষদ উহার কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে, সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে। 

কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

৯। কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ—

(ক) ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে পরিবহন নীতিমালা ও স্কীম প্রণয়ন, অনুমোদন এবং পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও উহা বাস্তবায়নের কার্যক্রম তদারকী;
(খ) সরকারী ও বেসরকারী পরিবহন ব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনাসহ উন্নত পরিবহণ সেবা নিশ্চিত করা;
(গ) বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার বাস্তবায়িতব্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহের চূড়ান্ত নক্সা অনুমোদন;
(ঘ) Act এর Section 74 (1) এর অধীন প্রকাশিত মাস্টার প্ল্যান, DAP, STP ও অন্যান্য সমীক্ষা বিবেচনাক্রমে ঢাকার পরিবহন, যানবাহন, রাস্তা, ফুটপাত, রাস্তা সংলগ্ন স্থানের ব্যবস্থাপনা এবং পার্কিং নীতি প্রণয়ন;
(ঙ) রাস্তায় পথচারীদের চলাচলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়;
(চ) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্মিতব্য বহুতল ভবন ও আবাসিক প্রকল্পে যানবাহনের প্রবেশ-নির্গমন ও চলাচল (Traffic Circulation) সংক্রান্ত নক্সা অনুমোদন এবং তদারকী;
(ছ) সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অবকাঠামো নির্মাণে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী নির্মিত অবকাঠামো অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান;
(জ) সকল প্রকার ব্যাক্তিমালিকানাধীন যানবাহন, সরকারী ও বেসরকারী পরিবহন নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা প্রণয়ন, উক্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশাবলী প্রণয়ন এবং পরিবহন পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সহিত প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদন;
(ঝ) যানবাহন চলাচলের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান;
(ঞ) পরিবহন ব্যবহারকালে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে ও পরিবহন সংক্রান্ত নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন;
(ট) সকল শ্রেণীর ও প্রকারের যানবাহনের পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও উহা বাস্তবায়নে দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান; 
(ঠ) পরিবহন সংক্রান্ত কর আরোপ এবং অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান;
(ড) যানবাহন ও পরিবহন ইঞ্জিনিয়ারিং স্কীম প্রণয়ন এবং উহা অনুমোদন;
(ঢ) যানবাহনের পার্কিং সুবিধার লক্ষ্যে গৃহীত পার্কিং প্ল্যান ও যানবাহন চলাচলের নক্সা অনুমোদন;
(ণ) যানবাহনের ডিপো, টার্মিনাল, ইত্যাদি স্থাপনার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়নে পরামর্শ প্রদান ও তদারকী;
(ত) পরিবহন খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও তদারকী;
(থ) বিভিন্ন শ্রেণীর পরিবহনের সংখ্যা ও প্রকৃতি নির্ধারণ;
(দ) যানবাহন ও পরিবহন সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে সহায়তা প্রদান;
(ধ) ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণরোধে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান;
(ন) দ্রুতগামী গণপরিবহন (Mass Rapid Transit) ব্যবস্থা সংক্রান্ত নীতি ও প্রকল্প প্রণয়ন, ক্ষেত্রবিশেষে বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমুহকে পরামর্শ প্রদান ও তদারকী;
(প) বিভিন্ন পরিবহন রুটের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং রুট ও লেন নির্ধারণের বিষয়ে নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন;
(ফ) নৌ-পরিবহন রুটের সহিত স্থল পরিবহনের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উহা বাস্তবায়নের পরামর্শ প্রদান;
(ব) দ্রুত ও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষে দ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থার আওতায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, মেট্রোরেল এবং রুট ভাড়া অথবা লীজ প্রদানের মাধ্যমে (রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ) বাস বা রেল (মেট্রো/ মনো/ সার্কুলার/ কমিউটার) বা এক্সপ্রেসওয়ে (উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন লেন) পরিচালনার জন্য সরকারী, বেসরকারী অথবা সরকারি-বেসরকারী যৌথ মালিকানায় পরিবহন পরিচালনার কার্যক্রম, ভাড়া নির্ধারণ এবং এতদ্‌সংক্রান্ত অন্যান্য কাজের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও অনুমোদন;
(ভ) গণপরিবহন সংক্রান্ত প্রচারণা ও তথ্য বিনিময়;
(ম) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, চুক্তি সম্পাদন;
(য) উপরি-উক্ত কোন বিষয়ের সহিত প্রাসঙ্গিক অন্য কোন কাজ;
(র) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন। 

পরিচালনা পরিষদের সভা

১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। 
(২) পরিচালনা পরিষদের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, সময় ও তারিখে আহুত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিবৎসর কমপক্ষে তিনবার সভা অনুষ্ঠিত হইবে। 
(৩) চেয়ারম্যান পরিচালনা পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যানের মধ্যে যিনি অগ্রে তিনি সভার সভাপতিত্ব করিবেন। 
(৪) দশজন সদস্য সমন্বয়ে পরিচালনা পরিষদের সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মূলতবি সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না। 
(৫) পরিচালনা পরিষদের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে কোন সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা পরিচালনা পরিষদ গঠনের ত্রুটি থাকার কারণে পরিচালনা পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না। 

আমন্ত্রিত সদস্য

১১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিচালনা পরিষদের সদস্য নহে অথচ সভার আলোচ্য বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা বা অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এমন কোন ব্যক্তি পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক আমন্ত্রিত হইলে তিনি পরিচালনা পরিষদের সভায় উপস্থিত থাকিবেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করার অধিকারী হইবেন, তবে তাঁহার কোন ভোটাধিকার থাকিবে না।

নির্বাহী পরিচালক

১২। (১) কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবে। 
(২) নির্বাহী পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। 
(৩) নির্বাহী পরিচালক কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন। 
(৪) নির্বাহী পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে নির্বাহী পরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে উক্ত শূন্য পদে নব নিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত, অথবা নির্বাহী পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি নির্বাহী পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন।

কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

১৩। কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

কমিটি

১৪। কর্তৃপক্ষ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুস্পষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

কর্তৃপক্ষের তহবিল

১৫। (১) কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ—
(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে গৃহীত ঋণ;
(ঘ) কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থ;
(ঙ) অন্য কোন বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ। 
(২) এই তহবিল কর্তৃপক্ষের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং নির্বাহী পরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে। 
(৩) এই তহবিল হইতে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যয়-নির্বাহ করা হইবে। 
(৪) কর্তৃপক্ষ তহবিলের অর্থ বা উহার অংশ বিশেষ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

বার্ষিক বাজেট বিবরণী

১৬। কর্তৃপক্ষ প্রতিবৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে। 

হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

১৭। (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। 
(২) প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাহী পরিচালক কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা রিপোর্ট পরিচালনা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করিবেন।
(৩) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন। 
(৪) উপ-ধারা (৩) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি-পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের যে কোন সদস্য নির্বাহী পরিচালক এবং কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

ক্ষমতা অর্পণ

১৮। পরিচালনা পরিষদ উহার যে কোন ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে এবং নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পরিষদের অন্য কোন সদস্য, নির্বাহী পরিচালক বা অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।

কোম্পানী গঠনের ক্ষমতা

১৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের, পূর্বানুমোদনক্রমে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পৃথক কোম্পানী গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

২১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২২। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা এবং ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড এর বিলোপ, ইত্যাদি

১[ ২৩। (১) এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবার সংগে সংগে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড, অতঃপর বিলুপ্ত বোর্ড বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।
(২) বিলুপ্ত বোর্ড এর-
(ক) সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধাদি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এবং অন্য সকল দাবি ও অধিকার কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানান্তরিত হইবে এবং কর্তৃপক্ষ উহার অধিকারী হইবে;
(খ) সকল ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব হইবে;
(গ) সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং বিলুপ্ত বোর্ডে কর্মরত থাকাকালে যে শর্তে চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে কর্তৃপক্ষের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন।

রহিতকরণ ও হেফাজত

২৪। (১) ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১৯ নং আইন), অতঃপর রহিত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল। 
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিত আইনের অধীন কৃত সকল কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) রহিত আইনের অধীন গৃহীত কোন কার্যধারা অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এইরূপে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই।]

১ ধারা ২৩ ও ২৪ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০১২ এর ২ ধারাবলে সংযোজিত।

Top